স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর।। বাতায়ন২৪ডটকম।।
রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দৈনিক আমার দেশ এর রংপুর ব্যুরো প্রধান বাদশাহ ওসমানীকে রংপুরের পুলিশ সুপার জনাব মারুফাত হোসাইন কর্তৃক গালিগালাজ এবং দেখে নেয়ার হুমকির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আরপিইউজের নির্বাহী পরিষদ ও সকল সদস্যের পক্ষে এক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক ও সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিক বাদশাহ ওসমানী গঙ্গাচড়া থানার একজন এসআই কর্তৃক মামলার ২ জন আসামীর কাছে তিন লাখ টাকা দাবি এবং টাকা না দেয়ার তাদের নামে চার্জশিট প্রদানের বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য রংপুর পুলিশ সুপারের কাছে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন না ধরায় পরবর্তীতে তার মোবাইলে ম্যাসেস পাঠান। এরপর জনাব পুলিশ সুপার ফোন ব্যাক করে বাদশাহ ওসমানীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ আইনশৃঙখলার বিষয়ে জেলার প্রধান হিসেবে পুলিশ সুপারসহ অন্যান্যদের কাছে তথ্যের সঠিকতা যাছাই বাছাই এবং বক্তব্য নেয়া সাংবাদিকদের জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ন। কিন্তু বর্তমান পুলিশ সুপার মহোদয় ফোন ধরেন না। ধরলেও সঠিকভাবে কথা বলেন না। তথ্য দেন না। খারাপ আচরণ করেন। বিষয়টি শুধু বাদশা ওসমানির সাথেই হয়েছে এমন নয়। এরই মধ্যে সাংবাদিকদের অনেকের সাথেই তিনি তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে অপেশাদার আচরণ করছেন। যা ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের আকাঙখার সম্পুর্ন পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা মনে করি সাংবাদিককে গালিগালাজ ও দেখে নেয়ার হুমকির মাধ্যমে তিনি পুরো সাংবাদিক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন ও মানহানি করেছেন। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে দিয়েছেন। যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। এরমাধ্যমে তিনি আইনশৃঙখলাবাহিনীকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বহুল আকাঙখিত নির্বাচন যখন সামনে তখন একজন পুলিশ সুপার কর্তৃক এ ধরণের অপেশাদার আচরণে সাংবাদিকরা নিরাপত্তাহীনও বটে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এরই মধ্যে বিষয়টি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মহোদয়কে জানানো হয়েছে। কিন্তু ঘটনার ৭২ ঘন্টা পার হলেও রংপুর পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় সাংবাদিক সমাজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং সাংবাদিকদের তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হোক। যদি তা করা না হয়, তাহলে সাংবাদিকরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
বাতায়ন২৪ডটকম।। মেমোহি।।