গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কালবৈশাখীর ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের দক্ষিণ কোচাশহর গ্রাম। এতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ওই গ্রামের অনন্ত ৩০টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোচাশহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ কাঁচা ঘরবাড়ি। এছাড়া গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের ফলে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হঠাৎ ঝড়ে কোচাশহর ইউনিয়নের দক্ষিণ কোচা শহর গ্রামের অন্তত ৩০টি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এখনি জরুরি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
এসময় চেয়ারম্যান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এক বস্তা করে চাল ও কিছু নগদ টাকা প্রদানের চিন্তাভাবনা করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলের দিকে আকাশে হঠাৎ করে কালো মেঘ জমে প্রবল দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এসময় ঝড়ের তান্ডবে কোচাশহর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ অনন্ত ৩০টি পরিবারের কাঁচা ঘরবাড়ির টিন দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কোনো বাড়ির টিন উড়ে গিয়ে পাশের জমিতে পড়ে। উপড়ে পড়ে অনেক গাছ এবং নষ্ট হয় জমিতে থাকা পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আশপাশের এলাকায় আংশিক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খাজা মিয়া ও জামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে অনেকের ঘরবাড়ি উড়ে গেছে। আমরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছি। অনেকের গাছ-গাছালীসহ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমরা গতকাল থেকে অন্ধকারে আছি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে গোবিন্দগঞ্জে বেশকিছু পরিবার ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা ও তাদের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গোবিন্দগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রাশেদ আব্দুল্লাহ বলেন, গতকালের ঝড়ে আমাদের চারটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে গতকাল থেকেই উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাতায়ন২৪/ রায়হান