মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
স্বাধীনতা বিরোধীরা আশেপাশে আছে, আমাদের সাথে আছে, মিলেমিশে আছে, সুযোগ পেলেই স্ব-মুর্তিতে আবির্ভূত হবে: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী তিস্তায় নিখোঁজের ১৮ দিন পর সন্ধান মিললো নাইসের লাশের  রংপুরে গাছের ডাল পড়ে মারা গেলেন ১০ বছরের কন্যাসহ শিক্ষিকা, স্বামী আহত র‌্যাব-১৩ মাদক বিরোধী অভিযানঃ ৮১ কেজি গাজা ও ১১৪৫ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ, গ্রেফতার ৪ অবৈধভাবে স্যালাইন মজুদ: রংপুরের অবসর ও রিফাত মেডিসিন কর্নারকে জরিমানা সরকারকে সরাতে তারাতারি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করা হবে: আলাল   সাময়িক বরখাস্ত এডিসি হারুন রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরির দায়ে দুই কর্মচারীর ২ বছর করে কারাদন্ড পীরগঞ্জে ৩২ হাজার কেজি সরকারি চাল জব্দঃ ৩ কালোবাজারির নামে মামলা যানজট নিরসনে রংপুর মহানগরীতে চালু হলো ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম  
মিঠাপুকুরে ওএমএস এর চাল ওজনে কম ও টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগঃ ডিলারকে ব্যাখ্যা তলব চিঠি খাদ্য অধিদপ্তরের

মিঠাপুকুরে ওএমএস এর চাল ওজনে কম ও টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগঃ ডিলারকে ব্যাখ্যা তলব চিঠি খাদ্য অধিদপ্তরের

স্টাফ করেসপনডেন্ট, রংপুর।।

বাতায়ন২৪ডটকম।। রংপুরের মিঠাপুকুরের মির্জাপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব ডিলার ওই ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মুসা মিয়ার বিরুদ্ধে ওএমএস এর চাল ওজনে কম দেয়া, টাকা বেশি নেয়া এবং ইউএনওর নাম ভাঙ্গিয়ে ভোক্তার স্বাক্ষর নিয়ে চাল না দেয়ার অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে। বিষয়টি নিয়ে ওই ডিলারকে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়ে কেন তার ডিলারশীপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে সেই মর্মে চিঠি দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। তবে সংশ্লিষ্ট ডিলার তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করেছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, খাদ্য বিভাগ এবং ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব ডিলার মুসা মিয়ার শিব বাজার বিক্রয় কেন্দ্রে ওমমএস এর চাল বিতরণে ধারাবাহিকভাবে অনিয়ম হয়ে আসছে। প্রতিজন ভোক্তাকে ৩০ কেজি করে চালের পরিবর্তে দেয়া হয় ২৫ থেকে ২৬ কেজি চাল। সরকার নির্ধারিত ৪৫০ টাকা দরের বিপরীতে ৪৬০ টাকা করে গ্রহন করেন ওই ডিলার। শুধু তাই নয়,  অনেক ভোক্তার কাছে স্বাক্ষর নেয়ার পর বলা হয় ইউএনও চাল দেয় নাই, সেকারণে চাল নেই। এছাড়াও এর প্রতিবাদ করলে গ্রাহকদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং  ডিসির কাছে লিখিত আবেদন করেন ভুক্তভোগিরা। এরই প্রেক্ষিতে তদন্ত করে ওই ডিলারের কাছে ব্যাখ্যা তলব শিরোনামে গত ১৩ নভেম্বর চিঠি ইস্যু করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অমূল্য কুমার সরকার। চিঠিতে,  চাল ওজনে কম দেয়া, টাকা বেশি নেয়া, ইউএনওর নামে মিথ্যার আশ্রয় নেয়াসহ অন্যান্য সকল অনিয়মের কারণে ডিলার মুসা মিয়াকে কেন ডিলারশীপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে না সেজন্য তিন দিনের সময় সন্তোষজনক ব্যাখ্যাপত্র চাওয়া হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হয় চিঠিতে।

অনুসন্ধানে জাানা গেছে, চিঠি ইস্যুর ২২ দিন অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয় নি খাদ্য বিভাগ। স্বানীয় শিববাজার এলাকার কার্তিক বর্মন ও রাজিয়া সুলতানা,  মুরাদপুরের মর্তুজা বেগম ও ছাবু মিয়া, পূর্বমুরাদপুরের রোজিনা বেগম ও সাদিকুল ইসলাম,  শাহীন মিয়া, গোলনাহার বেগমসহ ২৫-৩০ জন ভূক্তভোগি ভোক্তা জানান, আমরা ডিলার মুসা মিয়ার ওজনে কম দেয়া টাকা বেশি নেয়ার বিষয়ে ডিসি অফিসে অভিযোগ দেয়ার পর সাংবাদিকরা আসলে তাদেরকেও বলি। এরপর উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে মুসা মিয়াকে চিঠি দিলে তিনি আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। আমাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। তিনি আমাদের বলে বেড়াচ্ছেন যতই চিঠি দিক তার কিছুই হবে না। আাগে যেভাবে চাল দিতেন, টাকা বেশি নিতেন, এখনও সেভাবেই দিবেন। কেউ তার কিছুই করতে পারবে না। আমরা আতংকে আছি।

মির্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি একরামুল হক মজনু মিয়া জানান, বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি। কিন্তু এই উদ্যোগকে কোন ডিলার যদি ভুন্ডুল করতে চায়। তাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। একারণে অভিযুক্ত ডিলারের বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে খাদ্যবান্ধব ডিলার ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুসা মিয়া জানান, এটি আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। আমি খাদ্য অফিসের চাওয়া ব্যাখ্যার জবাব তিনদিনের মধ্যে দিয়েছি। যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সব মিথ্যা। বিষয়টি রাশেক রহমানসহ উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দকেও আমি অবহিত করেছি।

মিঠাপুকুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অমূল্য কুমার জানান, এ বিষয়ে ডিলার মুসা মিয়া ব্যাখ্যা  তলবের জবাব দিয়েছেন। কিন্তু সেটি সন্তোষজনক হয় নি। এ বিষয়ে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামী সপ্তাহে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমাতুজ্জোহরা বৃতি জানান, আমরা গণমাধ্যমের খবর দেখে তাকে ব্যাখ্যা তলব করেছি। এখন তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাতায়ন২৪ডটকম।। সমামা

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved 2022 batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com