রবিবার, ০৪ Jun ২০২৩, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
কালীগঞ্জে ফেনসিডিল, এসকাপ সিরাপসহ আটক ১ দীর্ঘ ৪০ বছর পর খুলে দেওয়া হয়েছে রংপুর হাসপাতালের দক্ষিণ দিকের গেট রংপুরের বদরগঞ্জে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পালিত হল জিয়াউর রহমানের ৪২ তম শাহাদাৎবার্ষীকি কালীগঞ্জে মাদক বিরোধী প্রচারণামূলক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত বাংলার বুকে এক টুকরো লুসাই গ্রাম, প্রবেশ ফি ৩০ টাকা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগের কারণে নয়,নাম ও রোল নম্বর ভুলের কারণে পরীক্ষা ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। ভাড়া নিয়ে বিতর্কে রোকেয়া ভার্সিটির শিক্ষার্থীকে মারধোর, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ বদরগঞ্জে নদীতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু পুলিশের বেঁধে দেয়া রুটেই বিএনপির পদযাত্রায় নেতাকর্মীদের ঢল রংপুরে ভিশন স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভুল অপারেশনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ
ফলোআপ: রংপুরে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে ১ জন নিহত: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দুলু গ্রেফতার

ফলোআপ: রংপুরে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে ১ জন নিহত: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দুলু গ্রেফতার

স্টাফ করেসপনডেন্ট, রংপুর।। বাতায়ন২৪ডটকম।।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে স্লোগানের ভাষা নিয়ে বিরোধের জেরে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কৃষক সোনা মিয়া(৫৫) খূনের ঘটনায় কারমা্ইকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে দশটায় রংপুর মহানগরীর কামারপাড়া কোচস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এই ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮ এ।

কাউনিয়া থানার ওসি মোন্তাছের বিল্লাহ জানান, ওই ঘটনায় এজহারভুক্ত আসামিদের নজরদারিতে রেখেছিল পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে দশটায় রংপুর মহানগরীর কামারপাড়া কোচ স্ট্যান্ড থেকে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহযোগিতায় আজমল হক দুলু (৪৫) নামের আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়। লেবু কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য এবং কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি। এ নিয়ে মোট গ্রেফতার হলেন ৮ জন। এর আগে গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হারাগাছ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য মোজাম্মেল হক,  ৯ নং ওয়ার্ড  সদস্য মকবুল সালাম, উপজেলা আওয়মীলীগের বহিস্কৃত  সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, খানসামাহাটের বিকাশ দোকানদার মাইদুল ইসলাম, আব্দুল গাফফার, আব্দুল জলিল এবং আব্দুল আউয়াল।

রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান পিপিএম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় সোনামিয়ার পুত্র আখতারুজ্জামান সোহেল বাদি হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ৯। মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা ছাড়াও ১৫/২০ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় হত্যার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাজ্জাক এবং তার বড় ভাই হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রাজু আহমেদকে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান মামলার প্রধান আসামি আব্দুর রাজ্জাক এবং রাজুকে গ্রেফতারে পুলিশের পাশাপাশি ডিবি  এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন। প্রযুক্তি ব্যবহার ছাড়াও সম্ভাব্য সব জায়গায় সাড়াশী অভিযান চলছে।

এদিকে বুধবার (২৬ এপ্রিল) রংপুরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে সংঘর্ষ এবং নিহতের ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক মাজেদ আলী বাবুলের প্রত্যক্ষ মদদে জেলা সদস্য ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এবং তার ভাই চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ কে দায়ী করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান। সংবাদ সম্মেলনে মাজেদ আলী বাবুলের নামে স্লোগান না দেয়ায় তার অনুসারী আব্দুর রাজ্জাক এবং রাজু তাদের সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত বাহিনী বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির অনুষ্ঠান পন্ড এবং আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার অনুসারী আওয়ামীলীগ সদস্য সোনা মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৪ টায় খানসামা হাট এলাকায় স্থানীয় এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির ঈদ শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে স্লোগানের ভাষা নিয়ে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রাজু আহমেদের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর সন্ধা সাড়ে ৭ টায় খানসামা হাটে ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মুকুলের চাচাতো ভাই কৃষক সোনা মিয়াকে চাপাতি ও চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে রাজ্জাক-রাজু গ্রুপ। সোনা মিয়া মেয়ের বাড়ি থেকে ঈদের দাওয়াত খেয়ে ওই বাজারে তার নাতনি আরশি মনিকসহ চা খেয়ে ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।  এ ঘটনায় ওই এলাকায় এখনও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

রংপুর পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতিতে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের শীঘ্রই আইনের আওতায় আসবে।

নিহত সোনা মিয়া একজন কৃষক। তার দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। কৃষি জমি দেখার পাশাপাশি বাড়িতে গবাদিপশুর খামার দেখাশুনা করতেন তিনি।

কাউনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়া জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে জেলা ও কেন্দ্রে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

বাতায়ন২৪ডটকম।।সমামা

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved 2022 batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com