শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:১৪ অপরাহ্ন

পাওনা টাকা দিয়ে আমাদের বাঁচান: চিনিকলের অবসরপ্রাপ্তদের আর্তি

পাওনা টাকা দিয়ে আমাদের বাঁচান: চিনিকলের অবসরপ্রাপ্তদের আর্তি

স্টাফ করেসপনডেন্ট, রংপুর।। বাতায়ন২৪ডটকম।।

গ্রাচুইটি, ভবিষ্যৎ তহবিল ও অন্যান্য বিল সহ ২১ কোটি৬১  লাখ টাকা বকেয়া পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করছে রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বুধবার ( ৭ জুন) সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত শ্যামপুর চিনিকলের সামনে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন ১৮৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারী কর্মকর্তা ছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত উপ ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম, ইক্ষু গবেষণা সহকারী নজরুল ইসলাম,  ব্রয়লার ফায়ার ম্যান কফিলুদ্দিন,সেন্টার ইনচার্জ মাহমুদুল হাকিম, ইক্ষু উন্নয়ন সহকারী আতাবুজ্জামান দুলু, টারবন অপারেটর কবির উদ্দিন,পাম্প ড্রাইভার মহিউদ্দিন, মৃত সেন্টার ইনচার্জ আমিরুল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা বেগম, ড্রাইভার মমদেল মিয়া ও আরেক ড্রাইভার সারোয়ার হোসেন প্রমুখ।

পরে দাবি আদায়ে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। শেষে চিনিকলের ইনচার্জের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এসময় বক্তারা বলেন,  আমাদের অনেকের সন্তান পড়ছে দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে  কিন্তু টাকা পাঠাতে পারছেন না। দোকানপাট থেকে বাকিতে বাজার করেছেন, পরিশোধ করতে না পারায় দোকানের সামনে যাওয়া বাদ দিতে বাধ্য হয়েছেন। ঘরে সোমত্ব মেয়ে থাকলেও অনেকেই পারছেন না বিয়ে দিতে। বিয়ে দিলেও বিদায় জানাতে পারছেন না কেউ কেউ। ওষুধ কিনতে না পারায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর মুখে অনেকেই। এই গল্প রংপুরের শ্যামপুর সুগার মিলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের। গ্রাচুইটি ছুটি ও ও পিএফ ফান্ডের  টাকা না পাওয়ায় অনিশ্চিত জীবন যাপন করছেন তারা।

সমাবেশে  বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের পাওনা টাকা দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে যেন সরকার শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের  ন্যায্য পাওনা যেন বুঝিয়ে দেয় সরকার। তা না হলে ১৮৯ টি পরিবারের হাহাকার আর আহাজারি থামবে না। নইলে কঠোর আন্দোলনে হুমকি দেন তারা।

এ বিষয়ে শ্যামপুর সুগার মিল লিমিটেড রংপুরের ইনচার্জ প্রকৌশলী অনিশ চন্দ্র বর্মন জানান, চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী লাভ করেই তা থেকে এসব টাকা নিতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া এই অবস্থার উত্তোলন সম্ভব নয়। আমরা উদ্বিগ্ন। আমরাও চাই সরকার দয়া করে এই পাওনা পরিশোধ করে দিক। নিয়মের মধ্যে গেলে এই পাওনা কখনই পুরণ হবে না। কারণ চিনিকল লোকসানে আছে। তাই সরকারকেই এই উদ্যোগ নিতে হবে। স্মারকলিপি সদর দপ্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌছে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন এই কর্মকর্তা।

মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে গ্রাচুইটি ছুটি ও অন্যান্য বাবদ ১৪ কোটিএবং পিএফ ফান্ডের ৭ কোটি ৬১ লাখ ২৮ টাকা পাওনা রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের। তিন বছর আগে সরকার বন্ধ করেছে উত্তরাঞ্চলের এই সর্ববৃহৎ চিনি কলটি।

বাতায়ন২৪ডটকম।। সমামা

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved 2022 batayon24
Design & Developed BY ThemesBazar.Com